বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এ পর্যটন নগরী এখন আন্তর্জাতিক পর্যটক শূন্যতায় ভুগছে, ফলে স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পর্যটন খাতের এ সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স।
গত বছর দুবাই প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ বিদেশী দর্শনার্থীকে স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে সে চিত্র এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। শহরের ব্যস্ত রেস্তোরাঁগুলো এখন প্রায় জনশূন্য। টাসাস হসপিটালিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নাতাশা সিডেরিস জানান, তার রেস্তোরাঁগুলোর আয় ৫০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। বিশেষ করে পর্যটন এলাকার আউটলেটগুলোয় আয় কমেছে প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি নিজেরসহ সব কর্মীর বেতন ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দুবাইয়ের পুরো পর্যটন খাত এখন অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক রেস্তোরাঁ ও হোটেল তাদের অর্ধেক কর্মীকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে। কোনো কোনো চেইন রেস্তোরাঁ তাদের কয়েকটি শাখা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। কেবল রেস্তোরাঁ নয়, হোটেল, ট্রাভেল এজেন্সি এবং এয়ারলাইনসগুলোও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে প্রায় আড়াই হাজার মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এর ৯০ শতাংশই আকাশপথে ধ্বংস করা হয়েছে, তবুও কিছু ধ্বংসাবশেষ দুবাইয়ের আবাসিক এলাকা এবং বিলাসবহুল হোটেলের ওপর পড়েছে। এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং পর্যটকরা দুবাই আসতে ভয় পাচ্ছেন।
বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দর দুবাই ইন্টারন্যাশনালেও এর প্রভাব পড়েছে। হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় পর্যটকের সংখ্যা কমে গেছে। বর্তমানে দুবাইয়ের হোটেলগুলোয় কক্ষ ভাড়ার হার ১৫-২০ শতাংশে নেমে এসেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় অনেক বিলাসবহুল হোটেল তাদের কক্ষ ভাড়া অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে, কিন্তু তাতেও আশানুরূপ পর্যটক মিলছে না।
এ মন্দার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন দুবাইয়ের পর্যটন খাতে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকরা। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার হাজার হাজার কর্মী কাজ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। অনেককে এরই মধ্যে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জন্য করোনার দিনগুলোর মতো কঠিন সময় ফিরিয়ে এনেছে।
সংকট কাটাতে দুবাই সরকার ২৭ কোটি ২০ লাখ ডলারের একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর আওতায় হোটেল ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলো বিভিন্ন ফি পরিশোধে ছাড় পাবে। তবে যুদ্ধের ব্যাপ্তি বাড়লে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এখন দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার আশায় দিন গুনছেন।